মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

জেলার ঐতিহ্য

ফকির ছাড়ু মিজি (রঃ) সাহেবের দরগাহ
ফকিরছাড়ু মিজি (রঃ) সাহেবের দরগাহ নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদী কোর্টেরকেন্দ্রস্থল জেলা প্রশাসকের বাসভবন থেকে মাত্র ২০০গজ পূর্ব উত্তরে অবস্থিত।কবে কখন এ ঐতিহ্যবাহী দরগাহ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তার সঠিক তথ্য জানা যায়নি।তবে এলাকার প্রবীণ মুরুব্বী মরহুম মুজাফফর আহাং (১১৪) থেকে জানা যায় এদরগাহ তাদের বাপ-দাদার আগে থেকেই ছিল। তাঁর ধারণা এবং মাজার কমিটির লোকজনথেকে তথ্য সংগ্রহ করে জানা যায় এর বয়স আনুমানিক ২০০ বৎসরের কম নহে।
সংগৃহীততথ্য সূত্রে জানা যায় ফকির ছাড়ু মিজি (রাঃ) সাহেব একজন কামেল লোক ছিলেন।বর্তমানে যে স্থানে তাঁর মাজার অবস্থিত সে স্থানে অতীতকালে খুব বন জঙ্গলছিল। ফকির সাহেব এ গভীর জঙ্গলে একাকী ধ্যানে মগ্ণ থাকতেন। বনের বিষধর সাপ, বাঘ, ভালুক, হিংস্র জীব জন্তুও তাঁর ধ্যানের ক্ষতিকারক ছিল না।
বৃটিশআমলে এতদাঞ্চলের জমিদার রায় বাহাদুর এ ফকিরের অলৌকিক ক্ষমতা ও ধ্যানের কথাশুনে মাজারের এবং মেলার জন্য কিছু জমি দান করেন, যা ১৯৮২ সালের খতিয়ানেঅন্তর্ভূক্ত হয়েছে বলে মাজার কমিটির সেক্রেটারী জনাব আবদুস সাত্তার জানান।দুই শত বৎসরের ঐতিহ্যবাহী ছাড়ু মিজি সাহেবের দরগা হতে প্রতি বৎসর মাঘ মাসেরএক তারিখে বিরাট মেলা বসে। এ মেলাতে বৃহত্তর জেলাসহ দূর দূরান্ত থেকেলক্ষাধিক লোকের সমাগম হয়। ঐতিহ্যবাহী এ মেলায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকেনানা জাতীয় জিনিসপত্র বিক্রয়ের জন্য আসে।


নোয়াখালী পাবলিক লাইব্রেরী
“লাইব্রেরীসভ্যতার অন্যতম মানদন্ড”লাইব্রেরী হচ্ছে সকল দেশের, সকল সমাজের জ্ঞানচর্চার, প্রতিভা বিকাশের অন্যতম স্থান। এ আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে বৃহত্তরনোয়াখালীর বৃহত্তর লাইব্রেরী যার নাম “নোয়াখালী পাবলিক লাইব্রেরী”প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৯৫ সালে (বাংলা ১৩০২) নোয়াখালী পুরান শহরে। ১৯৪৪ সালে যখননোয়াখালী পুরান শহর মেঘনার ভাঙ্গনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছিল তখনলাইব্রেরীটি স্থানান্তরিত হয়ে নোয়াখালীর প্রধান শহর মাইজদী কোর্টেপ্রতিষ্ঠিত হয়। শত বছরের ঐতিহ্য নিয়ে এ লাইব্রেরী এখনও জ্ঞানের আলো ছড়িয়েদিচ্ছে সর্বসাধারণের মাঝে।
নোয়াখালী মাইজদী কোর্ট শহরের প্রাণকেদ্রজর্জকোর্ট রোড চৌরাস্তার মোড়ে জেলার ঐতিহ্যবাহী টাউন হল সংলগ্ন একটিসেমিপাকা (৪০/র্^৮০র্)টিন সেডে নিজস্ব ঘরে বেসরকারী খাতে প্রতিষ্ঠিত এলাইব্রেরীর অবস্থান। বর্তমানে এ লাইব্রেরীর সামনের খোলাচত্তরে বিভিন্নসামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের নানাবিধ অনুষ্ঠানাদি হয়েথাকে।
ঐতিহ্যবাহী নোয়াখালী পাবলিক লাইব্রেরীর বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৫৬৬জন। এর মাঝে ১৬ জন আজীবন সদস্য এবং ৫৫০জন সাধারণ সদস্য রয়েছে। এলাইব্রেরীতে বর্তমানে প্রায় ২০,০০০ বই আছে। উপন্যাস, ছোট গল্প, ধর্মীয় বই, কবিতা, জীবনী ইতিহাস, বিজ্ঞান, স্বাস্থ্য, আইন, প্রকৌশল ও বিবিধ পাঠ্যপুস্তক। সংগ্রহ ভান্ডারে ব্রিটিশ ভারতের অনেক দুর্লভ বইও আছে। অনেক জ্ঞানপিপাসুরা তাঁদের গবেষণার পরিধি বিস্তারের জন্য এ লাইব্রেরীর সহযোগিতা গ্রহণকরেন। এ লাইব্রেরীতে বহু পুরাতন পত্র পত্রিকা সুন্দরভাবে সংরক্ষিত আছে।দৈনিক পত্রিকা ছাড়াও দেশ বিদেশের বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের স্মরণিকা, ম্যাগাজিন, বার্ষিক প্রতিবেদন ইত্যাদি এ লাইব্রেরীর পাঠকদের জন্য সৌজন্যসংখ্যা হিসেবে প্রদান করা হয় এবং যা পরবর্তীতে লাইব্রেরীতে সংরক্ষণ করা হয়।প্রতিদিন গড়ে ১৮৫ জন পাঠক এ লাইব্রেরীতে পড়তে আসেন। এ লাইব্রেরীর আয়েরপ্রধান উৎস হচ্ছে সরকারী ও বে-সরকারী অনুদান। এছাড়া আয়ের আরেক উৎস আজীবন ওসাধারণ সদস্যদের চাঁদা।
সরকারী, বেসরকারী এবং স্থানীয় বিত্তবানদের আরওসক্রিয় সহযোগিতা পেলে এ জেলার শত বছরের ঐতিহ্যবাহী নোয়াখালী পাবলিকলাইব্রেরী এক বিশাল জ্ঞান ভান্ডারে পরিণত হবে বলে আমরা আশা করছি। বর্তমান ওভবিষ্যত প্রজন্ম এ লাইব্রেরীর সহযোগিতায় তাদের প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়ে দেশ ওজাতির ইতিহাসে বিরাট অবদান রাখবেন।