মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

পটভূমি

জেলা পরিষদ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান সমূহের মধ্যে অতি প্রাচীন ও জনসমাদৃত প্রতিষ্ঠান হলো “জেলা পরিষদ”। ১৮৮৫ সালে “লোকাল সেলফ গভর্ণমেন্ট এ্যাক্ট” অনুযায়ী “জেলা বোর্ড” নামে এই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়। পাকিস্তান শাসন আমলে ১৯৫৯ সালে মৌলিক গণতন্ত্র আদেশ অনুযায়ী জেলা বোর্ডের নাম “ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল” করা হয়। সর্বপ্রথম ১৯৮৮ সালে জেলা পরিষদ আইন এবং পরবর্তীকালে বিভিন্ন সংশোধনের  মাধ্যমে জেলা পরিষদ আইন-২০০০ প্রণীত হয়েছে এবং এ আইন অনুযায়ী বর্তমানে ৩টি পার্বত্য জেলা ব্যতিত ৬১টি জেলায় জেলা পরিষদ পরিচালিত হচ্ছে।

           সংবিধানের ৫৯ ও ৬০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্থানীয় শাসনের কথা বলা হয়েছে। আমাদের দেশে দু’ ধরনের স্থানীয় শাসন রয়েছে। একটি শহর কেন্দ্রিক স্থানীয় শাসন ও আরেকটি গ্রাম কেন্দ্রিক স্থানীয় শাসন। গ্রামীন স্থানীয় শাসনে ৩টি স্তর রয়েছে। ৩টি স্তরের মধ্যে নেতৃস্থানীয় স্তর হলো জেলা পরিষদ।

            জেলা পরিষদের সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী জেলা পরিষদ আইন-২০০০ এর ধারা ৭৩ এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে স্থানীয় সরকার (জেলা পরিষদ) কর্মকর্তা ও কর্মচারী চাকুরী বিধিমালা,১৯৯০ অনুসারে সরকার কর্তৃক প্রেষণে ও পরিষদ কর্তৃক নিয়োগকৃত জনবল দ্বারা পরিচালিত হয়। বাংলাদেশ সরকারের উপ সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পদে , সিনিয়র সহকারী সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা সচিব পদে, এলজিইডি হতে একজন সহকারী প্রকৌশলী ও একজন উপ সহকারী প্রকৌশলী (প্রেষণে) দায়িত্ব পালন করে থাকে। বর্তমান সরকার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বিবেচনায় এনে জেলা পরিষদ আইন-২০০০ এর ৮২(১) ধারা মোতাবেক ৬১ জন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে জেলা পরিষদে “প্রশাসক” পদে নিয়োগ করেন।

        জেলা পরিষদ সম্পূর্ণ নিজস্ব আয়ে পরিচালিত স্থানীয় সরকারের একটি প্রতিষ্ঠান। এর আয়ের সিংহভাগ আসে স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর কর হতে যা ডিসি ট্যাক্স নামে পরিচিত। এছাড়াও জেলা পরিষদের মালিকানাধীন জমির ইজারা ফি, যাত্রী ছাউনী সংলগ্ন দোকান, ডাকবাংলো, অডিটরিয়াম, মার্কেটের দোকান ভাড়া, পুকুর, খেয়াঘাট ও ফেরীঘাট ইজারা হতে প্রাপ্ত অর্থ জেলা পরিষদের নিজস্ব আয়ের উৎস।

     জেলা পরিষদ আইন-২০০০ অনুযায়ী জেলা পরিষদ মূলত দুই ধরনের কাজ সম্পাদন করে থাকে। একটি আবশ্যিক অন্যটি ঐচ্ছিক। আবশ্যিক কার্যাবলীর মধ্যে জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প, রাস্তাঘাট, ব্রিজ, পুল/কালভার্ট নির্মাণ/মেরামত, আয়বর্ধক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়ে থাকে। ঐচ্ছিক কার্যাবলীর মধ্যে শিক্ষা, সংস্কৃতি, সমাজকল্যাণ, অর্থনৈতিক কল্যাণ, জনস্বাস্থ্য, গণপূর্ত ইত্যাদি কার্যাবলী সম্পাদন করে থাকে। বর্তমানে জেলা পরিষদের কর্মকাণ্ড আগের তুলনায় আরো বহুগুণে বিস্তৃত হয়েছে। দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে জেলা পরিষদের মাধ্যমে বিভিন্ন কর্মমুখী প্রশিক্ষণ (কম্পিউটার, ড্রাইভিং, সেলাই, ব্লক, বুটিক, ইত্যাদি) প্রদান করা হয়ে থাকে যা বেকার যুবক/যুব মহিলাদের সাবলস্বী হতে সহায়তা করে।

 

   এছাড়াও জেলা পরিষদের মাধ্যমে

Þ    স্থানীয় অসহায়, দু:স্থ্য, গরীব লোকদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

Þ    প্রতি অর্থ বছর জেলার গরীব ও মেধাবী ছাত্র/ছাত্রীদের এককালীন শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করা হয়।

Þ    বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগে দু:স্থ্যদের মাঝে জেলা পরিষদ হতে ত্রাণ বিতরণ করা হয়।

Þ    বিভিন্ন সামাজিক, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অনুদান প্রদান করা হয়।

    

         জেলা পরিষদ আইন, ২০০০ এর ৪ ধারা মোতাবেক ১ জন চেয়ারম্যান, ১৫ জন সদস্য এবং ৫ জন মহিলা সদস্যসহ মোট ২১ জন সদস্য নিয়ে জেলা পরিষদ গঠিত। জেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০১৬ মোতাবেক জেলা পরিষদ আইন ২০০০ এর ধার ১৭ উপধারা ১ এর নিম্মরুপ সংশোধনক্রমে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য নির্বাচনের জন্য নির্বাচক মণ্ডলী গঠন করা হয়।

      “ প্রত্যেক জেলার অন্তর্ভূক্ত সিটি কর্পোরেশন, যদি থাকে এর মেয়র ও কাউন্সিলরগণ, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানগণ, পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলরগণ এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ সমন্বয়ে উক্ত জেলার পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য নির্বাচনের জন্য নির্বাচকমণ্ডলী গঠিত হইবে।

 

                   জেলা পরিষদ আইন ২০০০ এর আওতায় প্রথম বারের মত বিগত ২৮ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখ ১ম জেলা পরিষদ   

             নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।   উক্ত নির্বাচনে জনপ্রতিনিধিদের ভোটে ডা: এ বি এম জাফর উল্লাহ নোয়াখালী জেলা পরিষদের

             চেয়ারম্যান এবং ১৫ জন সদস্য নির্বাচিত হন।

 

ছবি


সংযুক্তি

পরিচিতি পরিচিতি